ওঙ্কার ডেস্ক: সম্প্রতি ছাত্র-যুব আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিজেপি সাংসদ ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের একাধিক মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা তাঁর পোস্টে তিনি আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী জেন-জি প্রজন্মের একাংশকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর মন্তব্যে ব্যবহৃত ভাষা ও উপস্থাপনার ধরন নিয়ে রাজনৈতিক মহল, সমাজের বিভিন্ন স্তর এবং নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
কঙ্গনা রানাউত তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আন্দোলনের সময় ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিও, রিল এবং পোস্টের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের নামে এমন ভাষা ও আচরণ প্রকাশ্যে এসেছে যা অত্যন্ত অশালীন এবং কুরুচিকর। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিবাদের নামে কিছু তরুণ-তরুণীর ব্যবহার সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগের কারণ। এই প্রসঙ্গেই তিনি বর্তমান প্রজন্মের একটি অংশকে ‘নোংরা প্রজন্ম’ বলে উল্লেখ করেন, যা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। নিজের পোস্টে কঙ্গনা আরও দাবি করেন, সমাজে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পরিবর্তে বর্তমান প্রজন্মের একাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন এবং আলোচনায় থাকার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং পারিবারিক মূল্যবোধের পরিবর্তে অনেকেই উগ্র ভাষা ও কটাক্ষকে প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে কিছু তরুণীর আচরণ নিয়েও তিনি সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন, যা নিয়ে নারী সংগঠন ও সমাজের একাংশ আপত্তি জানিয়েছে।
কঙ্গনার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বহু ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন, একজন সাংসদ হিসেবে গোটা একটি প্রজন্মকে অবমাননাকর ভাষায় চিহ্নিত করা অনুচিত। তাঁদের মতে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজনের আচরণের ভিত্তিতে সমগ্র তরুণ প্রজন্ম সম্পর্কে এমন সাধারণীকরণ দায়িত্বজ্ঞানহীন, বিশেষ করে একজন সাংসদের দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি এমন মনোভাব খুবই উদ্বেগের বলে অভিমত অনেকের। তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও বিজপি সাংসদ কৃষক আন্দোলনের সময়ও আন্দোলনকারী দের বাক হেনস্থা করেন।