ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্দোলনস্থল এবং তার আশপাশে উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করতে গিয়ে বিপুল সংখ্যক অপরাধমূলক অতীত থাকা ব্যক্তির খোঁজ মিলেছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মোট ২,৮৭৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তির বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি, পকসো আইন এবং অস্ত্র আইনের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে দাবি, গত ২০ ও ২২ জুলাই রাজধানীর যন্তর-মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র আন্দোলনের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। অভিযোগ, সেই সময় পুলিশের উপর ইট-পাথর ছোড়া হয়, সরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং বেশ কয়েকটি গাড়িরও ক্ষতি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করতে হয় এবং পরে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোনে ধারণ করা ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বহু ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করা হয়। সেই প্রক্রিয়াতেই উঠে আসে, শনাক্ত হওয়া ২,৮৭৩ জনের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে ১০১ জনের বিরুদ্ধে খুন, ৬২ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, ৬১ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ১৯ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ, ২৮৪ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও ছিনতাই, ২২৯ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা এবং ৬ জনের বিরুদ্ধে পকসো আইনে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বহু ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, এই ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে অশান্তি সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর পুলিশ ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা দায়ের করেছে এবং ভিডিও ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য, ডিজিটাল প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে আরও অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ মিলবে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।