ওঙ্কার ডেস্ক: বহু জল্পনা কাটিয়ে অবশেষে রাজ্যের বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মূল তৃণমূল থেকে বিদ্রোহ করে মোট ৫৮ জন বিধায়কদের সম্মেলিত চিঠি দেওয়া হয় বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে। ঘাসফুল শিবিরের বিজয়ী বিধায়কদের সিংহভাগ এই মর্মে সই করে এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা পদ প্রদান করা হয়।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে বুধবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত নতুন বিরোধী গোষ্ঠীর বৈঠকে উপস্থিত বিধায়কদের সংখ্যা নিয়ে জল্পনার মধ্যেই তিনি দাবি করেন, বিরোধী শিবিরের মোট ৫৮ জন বিধায়কের মধ্যে ২৩ জন ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বাকি ২০ জন বিধায়কদের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে নেই বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।
ঋতব্রত জানান, তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তিনি সেই দায়িত্ব পেলে সরকার যে ভালো কাজ করবে তার প্রশংসা করবেন, আবার জনস্বার্থবিরোধী বা ভুল পদক্ষেপের সমালোচনাও করবেন। তাঁর কথায়, প্রকৃত বিরোধী রাজনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত সরকারের ভালো কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ত্রুটিগুলিকে সামনে আনা। তিনি আরও দাবি করেন, ৬০ জন বিধায়কের সমর্থন তাঁদের সঙ্গে রয়েছে এবং সেই সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। যদিও বৈঠকে ২৩ জন উপস্থিত ছিলেন, তবু অনুপস্থিত বহু বিধায়ক তাঁদের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলেও তাঁর বক্তব্য।
এই রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণের মধ্যেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্যের বার্তা দিতে ভোলেননি ঋতব্রত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের নেত্রী।” পাশাপাশি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়কে দলের প্রধান পরামর্শদাতার পদ গ্রহনে আহ্বান জানান ঋতব্রত। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস একটি কার্যকর পরিষদীয় দল হিসেবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিরোধী কণ্ঠস্বরকে যথাযথভাবে তুলে ধরতে না পারার কারণেই তাঁরা এই নতুন উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছেন। ঋতব্রতের বক্তব্য, সঠিক সমালোচনা এড়িয়ে যাওয়া বা দলের স্বার্থে যথযথ ভূমিকা পালন না করার প্রবণতা থেকেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই বিকল্প পরিষদীয় কাঠামো গড়ে তুলে বিধানসভার ভিতরে আরও সক্রিয় বিরোধী ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন গোষ্ঠীর সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কেও তিনি কিছু তথ্য দেন। তাঁর দাবি, আখরুজ্জামানকে চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও সংগঠন সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হবে। এদিন সংবাদমাধ্যেমের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করে এই বিদ্রোহী তৃণমূলের একাংশ। তারা এও স্পষ্ট করে বিধানসভায় সাংসদ অভিষেকের কোনো ভূমিকা নেই।
সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে ঋতব্রত বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংবাদমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে এবং প্রকৃত পরিস্থিতি জানাতে সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রাজ্য রাজনীতিতে এই নতুন সমীকরণ কতটা প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিধানসভার ভিতরে বিরোধী শক্তির ভারসাম্যে কী পরিবর্তন আনতে পারে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী হিসেবে স্বীকার করেই বর্তমান পরিষদীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কৌশল রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।